বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬ - ০৯:৪৮
শহীদ ইমাম খামেনেয়ীর দৃষ্টিতে আরবাঈন: একে শুধু একটি শোকানুষ্ঠান হিসেবে দেখবেন না

আরবাঈন যদি কেবল একটি শোকানুষ্ঠানই হতো, তবে তা কখনোই ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ও চিরস্থায়ী ঘটনায় পরিণত হতো না।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: সাইয়্যিদুশ শুহাদা ইমাম হুসাইন (আ.)’র শাহাদাতের চল্লিশতম দিন বা আরবাঈন সম্পর্কে শহীদ ইমাম হযরত আয়াতুল্লাহিল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.)-এর বক্তব্যমালা থেকে আরবাঈনের তাৎপর্য ও বার্তা নিয়ে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হলো:

যে প্রত্যাবর্তন আশুরাকে চিরঞ্জীব করে রেখেছে
আরবাঈন প্রসঙ্গে আমি শুধু একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই।

ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর আহলুল বাইতের কারবালায় প্রত্যাবর্তন কেবল শোক প্রকাশ বা অঙ্গীকার নবায়নের উদ্দেশ্যে ছিল না—যেমনটি কখনো কখনো বলা হয়। এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ছিল এর চেয়েও অনেক গভীর ও সুদূরপ্রসারী।

ইমাম সাজ্জাদ (আ.) কিংবা হযরত জয়নাবে কুবরা (সা.আ.)-এর মতো মহান ব্যক্তিত্বদের কর্মকাণ্ডকে সাধারণ বা বাহ্যিক বিশ্লেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তাঁদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের অন্তরালে ছিল এক মহান প্রজ্ঞা ও ঐতিহাসিক লক্ষ্য।

সাইয়্যিদুশ শুহাদা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র মাযারে তাঁদের আগমন ছিল মূলত আশুরার আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতা।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁরা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর অনুসারী, আহলুল বাইত (আ.)-এর অনুরাগী এবং কারবালার ঘটনায় প্রভাবিত সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে এই বার্তা দিতে চেয়েছিলেন যে, আশুরার ঘটনা শাহাদাত, দাফন, বন্দিত্ব কিংবা বন্দিদের মুক্তির মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে যায়নি; বরং এটি একটি অব্যাহত আন্দোলন।

তাঁরা শিয়াদের শিক্ষা দিয়েছেন—কারবালা তোমাদের মিলনকেন্দ্র; এটি এমন এক মহাসমাবেশের স্থান, যেখানে সমবেত হয়ে শিয়া সমাজের লক্ষ্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মহান ইসলামী আদর্শকে স্মরণ ও পুনর্জাগরিত করতে হবে।

ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ, এমনকি শাহাদাত পর্যন্ত অবিচল থাকার আদর্শ—এমন একটি শিক্ষা, যা মুসলমানদের কখনো বিস্মৃত হওয়া উচিত নয়। এই চেতনাকে চিরজাগ্রত রাখার উদ্দেশ্যেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র পরিবার, ইমাম সাজ্জাদ (আ.) এবং হযরত জয়নাবে কুবরা (সা.আ.) আরবাঈনের দিনে কারবালায় ফিরে এসেছিলেন।

এ কারণেই আরবাঈনের জিয়ারত আহলুল বাইত (আ.) থেকে বর্ণিত জিয়ারতসমূহের মধ্যে অন্যতম গভীর, সমৃদ্ধ ও তাৎপর্যপূর্ণ জিয়ারত হিসেবে বিবেচিত।

সূত্র: শহীদ ইমাম আয়াতুল্লাহিল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.), তেহরান জুমার নামাজের খুতবা, ২৪ মেহর ১৩৬৬ শামসি (১৬ অক্টোবর ১৯৮৭)।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha